যত বাধাই আসুক দেশ নেত্রীর মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন করে যাবো : গোলাম নবী আলমগীর

ভোলা বার্তা, নিজস্ব প্রতিনিধি

ভোলা-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেছেন যত বাধাই আসুক দেশ নেত্রীর মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন করে যাবো। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমরা (বিএনপি-আ’লীগ) দীর্ঘদিন যাবত সহাবস্থানে আছি। কিন্তু গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে যে ভাবে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর, ধনিয়া, কাচিয়া, আলীনগর, ইলিশা, কালুপুর, ইলিশার পক্ষীয়া, জাঙ্গালিয়া, ভেদুরিয়া, বাপ্তা, শিবপুর, চরসামাইয়া, ভেলুমিয়াসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমার নেতা-কর্মীকে মারধর, অফিস ভাংচুর, পোস্টার ছেড়াসহ বিভিন্ন কাজে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা বাঁধা প্রদান করতেছে। বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মীকে পিটিয়ে জখম করেছে। আমার কর্মীদের ব্যক্তিগত বোরাক পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনী আচরন লংঘন করে চলছে। এপর্যন্ত আমার ৭ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং অসংখ্য কর্মী আহত অবস্থায় আছেন। এসমস্ত অভিযোগ তুলে ডিসি-এসপিকে ব্যবস্থা নিতে বললে, তারা বলেন আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ কথা বলেই তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। কিন্তু কাজে কাজ কিছুই করছেন না। এদিকে আওয়ামীলীগের এক চেয়ারম্যান বলেন, আমার সিলিপ ছাড়া কেউ ভোট দিতে পারবে না।
অপরদিকে আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি বাজারে স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির, সানু মেম্বার, কাশেম, মনির, বশার, ইউসুফ, লিটন, কামাল ও শাহীনসহ মোট ১০০ থেকে ১৫০ সন্ত্রাসী আমার নির্বাচনী অফিসে অতর্কিত হামলা করে তা ভেঙ্গে ফেলে। আমার কর্মি আল-আমিনের পা ভেঙ্গে ফেলে এবং কাশেম মাস্টার, অলি ও ছোটনকে বেদম মারধর করে।
অভিযোগে তিনি আরো বলেন, ভোলা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীমকে বোরহানউদ্দিনের বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি এত অমানবিক যে, খাদ্য ও পানিসহ কোন ব্যক্তিকে তার বাসায় প্রবেশ করতে এবং বের হতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু ভোলা-২ নয়, ভোলা-৩ আসনেও ধানের শীষের প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের লালমোহনের লাঙ্গলখালির বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ভোলা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমেরও অবস্থা একই রকম। তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, গত ৫ জানুয়ারী ২০১৪ সালে কলঙ্কিত ভোটার বিহীন নির্বাচনের পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবীতে বিএনপির জোটের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হামলা-মামলা, গুম-খুন ও সিমাহীন নির্যাতনের পর দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাঁপের প্রেক্ষিতে স্বৈরাচারী সরকার তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। দলীয়ভাবে মনোনয়ন পত্র বিতরণের সময় সারাদেশে উৎসব মুখর পরিবেশ থাকলেও অফিসিয়ালভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে সরকারী দল সারাদেশে তাদের ৭২/৭৫ সালের ন্যায় হিং¯্র রুপ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
তাই আমরা চাই পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবিসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে বর্নিত ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় এনে ভোলার-৪টি আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরি আসুক, যাতে প্রত্যেক প্রার্থী দ্বিধাহীনভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার কার্য চালাতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হায়দার আলী লেলিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ ট্রুম্যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, বিএনপি নেতা রাইসুল আলম, বিএনপি নেতা বশির হাওলাদার, সদর বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ, সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দর রব আকন, যুবদলের সাবেক সভাপতি ইয়ারুল আলম লিটন, যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীগণ

আপনার মন্তব্য জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.