চরফ্যাশনে বখাটেদের কারণে পড়াশোনা বন্ধ দুই ছাত্রীর

চরফ্যাসন প্রতিনিধি, ভোলা বার্তা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা জামালের ছেলের জন্য পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে কলেজ পড়ুয়া প্রবাসীর ২ মেয়ের। তারা হলেন চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ঝুমুর ও দ্বাদশ শ্রেণির ঝর্ণা।

কলেজে যাওয়ার সময় দুই মেয়েকে সবসময় উত্যক্ত করে বখাটেরা। তারা হলেন শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জামালের ছেলে রাকিব ও শাহীন।

জানা গেছে, বখাটে বন্ধু জুয়েলসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাজে ধরনের কটূক্তি করে তাদের। আবার এসিড মেরে ২ বোনের মুখ থেতলে দেওয়া হবে বলেও হুমকি প্রদান করে তারা। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় পড়ালেখা অবস্থায় অথবা প্রবাসীর স্ত্রী অন্য কোথায়ও গেলে বাসায় প্রবেশ করে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়ে শ্লিলতাহানী করে।

প্রবাসীর পরিবার জনান, বখাটে শাহীন ও রাকিব এ পর্যন্ত তিন-চারটি করে বিয়ে করেছে। টেম্পু চালক হয়েও আবারো এ দুই বোনকে বিয়ে করতে চায় এ বখাটেরা।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা জামালের ভয়ে এলাকায় কেউ তাদের বিচার করতে সাহস পাচ্ছে না। যার কাছেই বিচার নিয়ে যাওয়া হয় সবাই পিছপা হয়ে যায়। কারণ জামাল চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করিমের লোক।

এ ছাড়াও থানায় বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশের কাছে গত ২৬ শে জানুয়ারি বখাটে দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে আসা হয় এবং পরে নাটকীয়ভাবে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কলেজ পড়ুয়া দুই মেয়ে মামলা করতে চাইলেও মামলা নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা। পরে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এর নির্দেশে ২৭শে জানুয়ারি মামলা নেন ভারপ্রাপ্ত ওসি।

এদিকে ঝুমুর ও ঝর্ণা আওয়ামী লীগ নেতা জামাল এর কাছে বিচার দিলে তিনি এ তাদেরকে বলেন, তোমাদের পড়ালেখা করা লাগবে না। তোমরা গরীব, বিয়েসাদী করে ফেলো।

বখাটে রাকিব এর কাছে বিয়ে দিতে জোর করা হচ্ছে জানান প্রবাসীর পরিবার। এদিকে রাতে ৪ জন ছেলে এক সাথে আমার বাড়িতে ঘরে ঢুকে আমার মেয়েদেরকে তুলে নিয়ে যেতে চায় বলে জানান মেয়ের মা শাহিদা বেগম।

তিনি আরো জানান, সাবেক চেয়ারম্যান খোকন মিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়েছে ও বর্তমান চেয়ারম্যানকে জানানোর পরে তাদেরকে ডেকে এনে বিচার করেছে। তাতেও বখাটেরা কর্ণপাত করেনি। থানাতে বিচার দিতে গিয়েছি বরং ওসি উল্টো বলেছে মেয়েরা ছেলেদেরকে মেরেছে। বিচার চাইতে এসে আমাদের একজনকে আটক করে রেখে বখাটে রাকিব ও জুয়েলকে ছাড়াতে বাধ্য করা হয়েছে।

এভাবেই দফায় দফায় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা ও ওসিসহ বিভিন্ন জায়গায় বিচার দেওয়ার পরও বখাটেরদের অত্যাচার কমেনি। পরে গত ২৭ শে জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনকে উপজেলা অফিসে এসে বিষটি অবগত করা হয়।

এ সময় তিনি শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বখাটেরদের থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যেন কলেজে যেতে পারে দুই বোন এবং মামলা নিয়ে তাদেরকে আটকের ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য আদেশ দেন।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রবাসীর পরিবার ও জামাল তারা আত্মীয়। এর আগে দু পক্ষের মারামারি হয়েছে। এ সময় জামাল এর ছেলেরাও তাদেরকে মেরেছে। এ মারামারি সংবাদ নিয়ে তারা থানায় এসেছে। তখন দু পক্ষের লোকজন এসে বলেছে তারা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করে ফেলবে। এখন মামলা হয়েছে। আমাদের আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল এর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.