‘আমার বাড়ি ভোলা, পারলে কিছু কইরেন’

দৈনিক ভোলা বার্তা, ‘জীবনে বহু সাংবাদিক দেখছি, কিচ্ছু করতে পারেনি। আমার বাড়ি ভোলা, পারলে কিছু কইরেন।’ এভাবে ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখাচ্ছিলেন ঢাকা পশ্চিমের ট্রাফিক সার্জেন্ট রাসেল।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে যুগান্তরের দুই সাংবাদিক পলাশ মাহমুদ ও ইমরান হোসেনের সঙ্গে এভাবেই দুব্যবহার করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

শুক্রবার বিকাল চারটার দিকে গ্রিনরোড থেকে মোটরসাইকেল যোগে দুই সাংবাদিক কর্মস্থল কুড়িল বিশ্বরোডের উদ্দেশে রওনা হন। ফার্মগেট গিয়ে দেখতে পান, ভিআইপি যাওয়ার কারণে প্রধান সড়ক বন্ধ রয়েছে। ফলে ফার্মগেট বাস স্টপেজ ও সড়কের আশেপাশে বহু মানুষ ও গাড়ি জ্যামে আটকে আছে। তারাও সড়ক ফাঁকা হবার অপেক্ষায় ফার্মগেট সিনেমা হলের সামনে জ্যামে দাঁড়িয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর ভিআইপি চলে যাওয়ায় সড়ক ছেড়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু সড়ক ছেড়ে দিয়েই সার্জেন্ট রাসেল তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সিনেমা হলের সামনে এগিয়ে গিয়ে বলেন, সব মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নাও। এই নির্দেশ দিয়ে তিনি নিজেই ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলের চাবি তুলে নেন। এসময় দুই সাংবাদিকের মোটর সাইকেলের চাবিও তুলে নেন।

পরে দুই সাংবাদিক ওই সার্জেন্টের কাছে বলেন, ‘ভাই আমাদের অফিস টাইম হয়ে যাচ্ছে। একটু দ্রুত যেতে হবে। তখন সার্জেন্ট বলেন কাগজ নিয়ে আসেন। পরে কাগজ নিয়ে তাকে দিলে তিনি জানতে চেয়ে বলেন, আপনি কী করেন? তখন পলাশ মাহমুদ নিজের আইডি কার্ড দেখান।

সাংবাদিক আইডি কার্ড দেখে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ব্যাপক ক্ষেপে যান। আইডি কার্ড দেখেই কোনো কথা ছাড়াই উনি বলতে থাকেন, সাংবাদিক তো কী হইছে? বহু সাংবাদিক দেখছি, কিচ্ছু করতে পারেনি।

ভুক্তভোগী পলাশ মাহমুদ বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তার কথাবার্তায় মনে হয়েছে উনি মাদকাসক্ত ছিলেন। তা না হলে কোনো কথা ছাড়াই এভাবে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলার কথা না। আমার শরীর ভালো না থাকায় আমি শুধু ওনার কথা শুনেছি। উত্তর দিতে যাইনি। তবে ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের ডিসি পশ্চিমে লিখিত অভিযোগ করবো।

উত্তরে দুই সাংবাদিক বলেন, ভাই আমাদের সাড়ে ৪টায় অফিস। দেরি হয়ে যাচ্ছে। তখন অভিযুক্ত সার্জেন্ট বলেন, আমাদেরও ব্যস্ততা আছে। সবাইকে ছাড়া হবে আপনাদের ছাড়া না। আপনাদের সবার শেষে যেতে হবে।

এসময় তিনি মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে ইমরান হোসেনের ঠিকানা ভোলা জেলায় দেখে বলেন, আমার বাড়ি ভোলা, পারলে কিছু কইরেন। এসব কথা বলার মাঝে তিনি বেশ কয়েকবার অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করেন। এরপর মামলা লিখে রশিদ দিয়ে বলেন, বুঝলেন কী বলছি, আমার বাড়ি ভোলা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট রাসেল বলেন, ‘আমি ওনাদের বললাম চলে যান, ওনারা যাচ্ছিল না। আমি ‘আমার বাড়ি ভোলা’ শুধু এটুকুই বলেছি। এছাড়া আমি আর কিছু বলিনি। ওনাদের লেন ভায়োলেশনের মামলা দিয়েছি।’

তবে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, প্রধান সড়ক আটকানো থাকার কারণে গলির রাস্তা পুরোটাই জ্যাম। সব গাড়ি দাঁড়ানো। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি উনি কী করে লেন ভায়োলেশন পেল বুঝলাম না।

আপনি মাদকাসক্ত কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রশ্নই আসে না। আমি সিগারেটও খাই না।

এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক পশ্চিমের ডিসি লিটন কুমার সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টা এখনো কিছু জানি না। তবে সার্জেন্ট তো মেইন রোডে থাকে। তার ফার্মগেটের গলি রোডে যাওয়ার কথা না। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.