ভোলার বোরহানউদ্দিনে অস্বাভাবিক জোয়ারে পানিবন্ধি ১০ হাজার মানুষ। হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ

গোলাম মাহমুদ শাওনঃ

অমাবস্যার তিথি,উজান থেকে নেমে আসা ঢল,অস্বাভাবিক জোয়ার আর প্রবল বাতাষের কারণে গত কয়েকদিন যাবত উত্তাল হয়ে উঠছে মেঘনা।অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থানকারী ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে আলিমুদ্দিন বাজার থেকে শেল্টার বাজার পর্যন্ত শহর রক্ষা বেড়ী বাঁধ। একদিকে করোণা পরিস্থিতি অন্যদিকে জোয়ার-ভাটার দোলাচলে কাটছে তাদের অস্বাভাবিক জীবন।
‌শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় মেঘনার উপকূলবর্তী পানিবন্ধি মানুষগুলোর সাথে।আলিমুদ্দিন বাজারের আব্দুল বারেক,বাবুল,মোস্তফা বলেন,জোয়ার আসার আগে ঘরছাড়ি,ভাটা হলে ঘরে আসি।রান্না- বান্নার অভাবে অনেক বেলা উপোস থাকতে হয়।রাতে জোয়ার আসলে বেড়িবাঁধের ভিতরে বসবাসকারীদের বাড়িতে রাত কাটাই।
‌বড় মানিকা ৬ নং ওয়ার্ডের শেল্টার বাজারের নিকটবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন মহিলা – পুরুষ বেড়িবাঁধের উপর বসে আছেন।কথা হয় রতন,ফাতেমা,নুরজাহান,ও রোসোনা বেগমের সাথে।হাত উচু করে পূর্বদিকে কয়েকটি পানিবন্ধি ঘর দেখিয়ে বলেন,ওইগুলোই আমাদের বাসা।ভাটার অপেক্ষায় বসে আছেন তারা।দুপুরের খাবার এখনও জোটেনি।ভাটা হলে ঘরে ফিরে রান্না করে খাবেন।একই অবস্থা জনালেন,কামাল মাঝি,জাকির,রহিজল,মারুফ,হেলাল,ইউনুছ ও জাহাঙ্গীর।
‌ বড় মানিকা ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান,তার ওয়ার্ডে ৮২ পরিবার বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করেন।বড় মানিকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন,তার ইইউনিয়নের ৫,৬,৮ নং ওয়ার্ড পানিবন্ধি।বিশেষ করে বেড়ীবাধের বাইরে বসবাসকারীদের অবস্থা খুবই করুন।পক্ষিয়া ইউনিয়নের চেয়ার নাগর হাওলাদার জানান,৬ নং ওয়ার্ডের একাংশের মানুষ পানিবন্ধি আছেন। টবগী ইউনিয়নের ছলেমান মেম্বার জানান,তার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডটি বেড়িবাঁধের বাইরে।হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের একই অবস্থা। এ দুই ওয়ার্ডে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি জীবন যাপন করছেন।হাকিমুদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন জানান,ওই বাজারে প্রায় ৩ শত দোকান রয়েছে। কয়েকদিন যাবত তারা জোয়ার ভাটার দোলাচলে আছেন।জোয়ারের সময় ৩/৪ ফুট পানি উঠে তাদের মালামাল ভিজে যায়।এতে তারা কোটি টাকার মতো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন। এছাড়াও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ঢাকা,চরফ্যাশন ও বেতুয়াগামী লঞ্চযাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে।

পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ। পানিতে ঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের নস্ট হয়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি মালামাল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু স্থানে।
চরম দুর্ভোগ পড়েছেন মানুষগুলো।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান জানান,বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস।থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.