বোরহানউদ্দিনে চিকিৎসা সেবা উন্নত করতে ডাঃ তপতী চৌধুরীর সংগ্রাম

মনিরুজ্জামানঃ

করোনা পরিস্থিতিতে লন্ডভন্ড সারা বিশ্ব।পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশ আজ নাকানিচুবানি খাচ্ছে এককোষী এই জীবটির কাছে। বাংলাদেশ ও রক্ষা পায়নি এর থাবা থেকে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধবাজ দ্বীপবাসীর দুয়ারে এসে হাজির দূর্ভোগ নামক এই ভাইরাস । বৃহস্পতিবার রাতে তার আগমনী বার্তা আমরা শুনলাম। সংবাদ কর্মী হিসেবে অনুসন্ধিসু চোখ বার বার ফিরে যায় হাসপাতালের দিকে।রবিবার । বেলা সকাল সাড়ে ১১। হাসপাতালে ঢুকতেই থমকে গেলাম।প্রধান গেটে পুলিশ প্রহরা। সামনে রয়েছে বড় আকৃতির একটি জীবাণুনাশক স্প্রে মিশন।নেই হাসপাতাল সামনের সেই চিরচেনা পরিবেশ। চারদিকে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মোটরসাইকেলের দেখা পাওয়া গেল না। হাসপাতালে ঢুকতেই বাধা।জীবানুনাশক স্প্রে করে যেতে হবে। জরুরি বিভাগে গিয়ে বহিরাগত দালাল,টাউট (ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসীর লোক) কাউকে পেলাম না। ডানদিকে যেতে দেখলাম কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ফ্লোর জীবানুনাশক দ্বার পরিস্কার করেছেন।উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা রুমে ঢুকতেই দেখলাম এক ঝাঁক ডাক্তারদের নিয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আলোচনা করছেন।হয়তবা করোনা মোকাবেলার কর্মকৌশল নির্ধারণ করছেন। মনে মনে খুশি হলাম। ভাবলাম এক সময় এই হাসপাতাল ছিল আমাদের সংবাদের বড় ক্ষেত্র।বড় বাবুই তার চেম্বারে বসে অর্থের বিনিময়ে রোগী দেখতেন।অন্যদের অবস্থা নাই বা বললাম।তবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যতিক্রমী হলেন ডাক্তার পরিবারের আরেক ডাক্তার মশিউর রহমান সাদি।আপাদমস্তক একজন সৎ ও ভালো মানুষ।অবশ্য তার বাবা এক সময়কার এখানের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ ডাক্তার আব্দুর রশিদ ও এ গুনে গুণান্বিত ছিলেন।
অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান,বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা যোগদানের পরই ঘোষণা করেন সকাল বেলা কোন ডাক্তার প্রাইভেট প্রাকটিস করতে পারবেন না।পর্যায়ক্রমিক ভাবে সকলের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে দেন।ঘোষণা দেন ব্যতিক্রম হলেই আইনগত ব্যবস্থা।ফলে যাদেরকে এতদিন স্টাফ হিসেবে চিনতে মুশকিল কিংবা দেখা পাওয়া দায় ছিল,এখন তাদের সরব উপস্থিতি।করোনা পরিস্থিতিতে বর্হিঃবিভাগ থমকে গেলেও ডাক্তারদের উপস্থিতি রয়েছে আগের সময়ের চেয়ে অনেক ভালো।
জনৈক ঔষধ বিক্রেতা ও কয়েকজন কর্মচারী জানান,হাসপাতালে অভ্যন্তরীন পরিবেশ অনেক নিয়ন্ত্রিত ও উন্নত। কয়েকজন কোম্পানির প্রতিনিধি জানান,তাদের ডাক্তার ভিজিটের দিন ক্ষণ নির্ধারণ করে দেন এ কর্মকর্তা।
বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একজন জানান,দাঁতের ডাক্তারের রুম না পেয়ে বড় স্যারকে বললে তিনি সাথে একজন দিয়ে আমাকে ওই ডাক্তারের কাছে পাঠান।
জানা যায়,৪ মার্চ ডাক্তার তপতী চৌধুরী বোরহানউদ্দিন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃ পঃকর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। এরপরই শুরু হয় পরিবর্তনের সংগ্রাম।অবশ্য তিনি স্বীকার করেন,তার রয়েছে একঝাঁক তরুন মেডিকেল অফিসার। যারা প্রতিনিয়ত তার পাশে অবস্থান করছে।তবে সবার আগে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান,স্থানীয় সাংসদ আলী আজম মুকুল কে।
পুলিশ বসানোর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান,রোগীর সাথে অপ্রত্যাশিত আগন্তুকদের ঠেকাতে,সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সহ একাধিক কারনে এ ব্যবস্থা। তিনি এ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি বলেন এলাকাবাসী সহযোগিতা ছাড়া উন্নত পরিবেশ ও কাঙ্ক্ষিত সেবার মান নিশ্চিত করা মুশকিল।

কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বলছিলেন,” মাঠ পর্যায়ে কোন একজন কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে ওই এলাকার চেহারা পাল্টে দিতে পারে”। বিষয়টা যে কতটা বাস্তব সম্মত তা ডাক্তার তপতী চৌধুরী তার
পেশাদারিত্ব, সততা,আর দেশপ্রেম দিয়ে প্রমাণ করতে যাচ্ছেন। ধন্যবাদ ডাক্তার তপতী চৌধুরী ও তার টিমকে।ধন্যবাদ স্থানীয় সাংসদ আলী আজম মুকুল কে।

আপনার মন্তব্য জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.