ভোলার করোনা পরিস্তিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ

ভোলার  করোনা ভাইরাস পরিস্তিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা এটাই চাঁই। এটা একটা খুশি খবর যে, এখনো ভোলা করোনা ভাইরাসমুক্ত রয়েছে, এ অবস্থাই যেন ঠিক থাকে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখেতে হবে। বাইরে থেকে কাউকে আসতে দেয়া যাবে না। কারন বাইরের মানুষই এটা ছড়ায়।

রবিবার (১২ এপ্রিল) করোনা ভাইরাস নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ভোলার জেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। ভোলা একটি নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা, অনেক সময়  নদী ভাঙ্গনে  মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যায়। তাই ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করতে হবে, আমরা প্রতিটি মানুষকে ঘর করে দিবো, কেউ গৃহহারা থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, ভোলা থেকে উৎপাদিত পন্য তরমুজ থেকে শুরু করে অন্যান্য ফসল যাতে রাজধানী সহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় পৌছানোর যায় সে ব্যবস্থা করা হবে এবং সে মোতাবেক নির্দেশ দেয়া আছে। পন্য পরিবহন উম্মুক্ত থাকবে। এতে কেউ বাধা দিবে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভোলার করনো পরিস্তিতির কথা শুনেন এবং সবাইকে সরকারের নির্দশনা অনুযায়ী কাজ করার আহব্বান জানান।

এরআগে ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক জেলার করোনার  সার্বিক পরিস্তিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় কোন করেনা রোগী পাওয়া যায়নি। ১৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যারমধ্যে ৮৮ জনের রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, সবগুলো রিপোর্ট নেগেটিভ। এখন পর্যন্ত কারো করোনা ধরা পড়েনি ।

নৌ বাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ড  আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করছি। জেলার আইন শৃঙ্খলা সুষ্ঠ এবং সুন্দর রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যাগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে আমরা  ৮৭৭ মেট্রিন টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা পেয়েছি। এরমধ্যে ১৬ লাখ টাকা ও ৪৭৭ মেট্রিক টন চাল বিতরন করা হয়েছে। তালিকা তৈরীর মাধ্যমে ৩০ হাজার ৪৯৭ দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবাররের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারিভাবে ১৫ হাজার ১৭২ পরিবারকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক ভোলা জেলাকে করোনামুক্ত রাখার ব্যাপারে সব ধরনের চেস্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন ভোলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু। তিনিও করেনা পরিস্তিতি সন্তোষজনক আছে উল্লেখ করে ভোলাকে করোনা মুক্ত রাখার জন্য সব ধরনের চেস্টা অব্যাহত আছে বলে জানান।  এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভোলায় জেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য একটি ল্যাব স্থাপনের দাবী তোলেন।

জেলা প্রশাসনের সাথে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভোলা-২ আসেনর সংসদ সদস্য আলী আজম মকুল, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা আ’লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু,  পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী, নৌ বাহিনীর কমান্ডার, ডাকার-নার্স ও আলেমসমাজসহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.