ভোলায় আজান দেয়ার পর রুম থেকে বের করা হলো মুয়াজ্জিনের ফাঁস দেয়া লাশ

নিজস্ব প্রতিবেধক, ভোলা বার্তা ।।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নুরে আলম (২৮) নামে গলায় ফাঁস অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রোববার দুপুর ২টার দিকে ওই মসজিদের পাশে মুয়াজ্জিনের রুম থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা সূত্রে জানায়, দুপুরের আযান দিয়েছিলেন মুয়াজ্জিন। এরপরে মুসুল্লিরা জামায়াতে নামাজ পড়তে এসে মুয়াজ্জিনকে দেখতে পায়নি, অনেক ডাকাডাকির পরও না পেয়ে মুসুল্লিরা মুয়াজ্জিনের রুমে গিয়ে দেখেন জানালার গ্রিলের সাথে গলায় রশি লাগানো অবস্থায় লাশ ঝুলছে। পরে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

মুয়াজ্জিনের পরিবার সূত্রে জানায়, গত ২ মাস আগে বিবাহ করেন। সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করছিলেন। তার স্ত্রীর সাথেও কোনো ঝগড়া বিবাদ হয়নি। পারিবারিকভাবেও কোনো ঝগড়া বিবাদ ছিল না। হঠাৎ করে এমন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। কেন মারা গেল জানি না। মনে হয় কেউ মেরে এমনভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে।

মুয়াজ্জিন নুরে আলম বাপ্তা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কেউ হত্যা করে এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখছে। যেহেতু পাশে একটি খাট, জানালা এবং পা দুটি সম্পূর্ণ মাটিতে রয়েছে।

এবিষয়ে ধনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদ হোসেন কবীর জানান, দুপুরের দিকে খবর শুনে দৌড়ে এসে দেখি মুয়াজ্জিনের রুমের জানালার সাথে লাশ ঝুলছে। তারপর থানা পুলিশকে খবরে দেই। মুয়াজ্জিন অত্যান্ত একজন ভালো মানুষ ছিলেন। দীর্ঘ ৮ বছর এই মসজিদে নামাজ পড়িয়েছেন। তার মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক ছগির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মর্গের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলা যাবেনা। তবে মৃত্যুটি মনে হচ্ছে রহস্যজনক।

আপনার মন্তব্য জানান