চরফ্যাসনের মুরগি চুরির অপবাদে কিশোর নির্যাতনের খবর হাইকোর্টের নজরে

ভোলা বার্তা, ষ্টাফ রিপোর্ট ।।

ভোলার চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মুরগি চুরির অপবাদে রুবেল (১৪) নামের এক কিশোরকে বেঁধে নির্যাতনের খবরটি হাইকোর্টের নজরে এসেছে।

কিশোর রুবেলকে নির্যাতনের এ ঘটনা নিয়ে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘মানুষ এত নিষ্ঠুর হয়!’ শিরোনামে সংবাদটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত সোমবার হাইকোর্টের নজরে আনেন।

এরপর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্যাতনের ঘটনাটি অনুসন্ধান করে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন।

রুবেলকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলার চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদের নেতৃত্বে রুবেল (১৪) নামের এক কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ওই নির্যাতনের দৃশ্য ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘটনার একমাসের বেশি সময় পর শনিবার পুলিশ ওই কিশোরের মাকে ডেকে নেয়। পরে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আমজাদ হোসেনসহ ৬ জনকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

নির্যাতিত রুবেলের মা বিলকিছ বেগম ওই পত্রিকার প্রতিবেদককে বলেন, রুবেল জেলে নৌকার বাবুর্চি। ঘটনার আগের দিন বনভোজন খাওয়ার জন্য রুবেলসহ বেশ কয়েকজন মুরগি কিনে আনে। সেই মুরগি চুরি করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় মেম্বার। পরে ১৫ নভেম্বর মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে মেম্বার বাড়ি থেকে রুবেলকে ডেকে নিয়ে ৭নং ওয়ার্ডের হাজারীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসীর সামনে বেঁধে মারধর করেন।

তিনি জানান, একদিকে রুবেলকে পেটানো হয়, অন্যদিকে টাকার জন্য তার কাছে খবর পাঠানো হয়। পরে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদারের কাছে গেলে মেম্বারকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেয়ার কথা বলেন। পরে নিরুপায় হয়ে বিলকিছ বেগম নাকফুল আর গলার গহনা বন্ধক রেখে ৫ হাজার টাকা এনে মেম্বার আমাজাদ হোসেনকে দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন।

বিলকিছ বেগম বলেন, ঘটনার পর অর্থাভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি।

ঘটনার প্রসঙ্গে মেম্বার আমজাদ হোসেন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি মুরগি চুরির কঠিন বিচার করেছি। বিচার করতে গেলে একটু আধটু মারধর করতেই হয়। তবে চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদার দাবি করেন, ঘটনা প্রসেঙ্গ তিনি কিছুই জানতেন না। নির্যাতনের পর রুবেলের মা তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.