ভোলাপর্যটনের অপার সম্ভাবনা ॥ নেই উদ্যোগ

ভোলা বার্তা, বায়েজিদ খান    নদী বেষ্টিত জেলা ভোলা দক্ষিনে রয়েছে বঙ্গপোসাগর আর তাই এ জেলার প্রাকৃতিক সৈন্দর্য্য যে কাউকে মুগ্ধ করার মতো। ভোলায় ছোটবড় মিলিয়ে চরের সংখ্যা প্রায় ৭০টি।
কুকরি-মুকরি ,ঢালচর, মনপুরা, তারুয়া সহ বিভিন্ন সমুদ্র সৈকত এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নেই কোন উদ্যোগ। ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা এসব এলাকায় যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। পর্যটন মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে আসলে এসব এলাকাও পর্যটকদের আগমনে মূখরিত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
ভোলার মেঘনা র্তীরবর্তী তুলা-তলী ও বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা উপদ্বীপ কুকরি-মুকরি, ঢালচর, তারুয়া সমুদ্র সৈকত এবং মনপুরা, চরনিজামের কালকিনি সৈকতে প্রতিদিন দেশের নানা স্থান থেকে কোন না কোন পর্যটক বেড়াতে আসছেনই। পর্যটকরা এখানে এসে একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারছেন বিশাল সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশির কোলাহল, নানা জাতের পাখির কল-কাকলি, বালুকাময় মরুপথ আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ছায়াঘন পরিবেশে সময় কাটানোসহ মায়াবী হরিণ দেখার অপূর্ব সুযোগ। কিন্তু প্রকৃতির এই রূপ-সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয় তাদের।


এসব এলাকায় যাতায়াতে নির্ধারিত কোন নৌ-যান নেই। বিশেষ ব্যবস্থায় কিংবা রিজার্ভ করা স্পীড বোট, ট্রলার বা ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে যেতে হয় পর্যটকদের। ঘাটে নামার জন্য কোন পল্টুন বা টার্মিনাল নেই। পর্যটকরা এই কঠিন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে প্রকৃতির টানে এসব এলাকায় এসে মুগ্ধ হন ঠিকই কিন্তু নিরাপত্তাসহ সুপেয় পানি বা বিশ্রামাগারের অভাবে চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েন।


আবাসন ব্যবস্থা না থাকার কারণে রাত্রি যাপন করে উপদ্বীপগুলোর নির্জনতার অনুভুতি উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। খেলা-ধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় ভ্রমণ পিপাসুরা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে বাড়ি ফিরেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে আসেন ঠিকই কিন্তু পর্যটনের কোন সুবিধা পান না। নিজেদের আয়োজনেই এসব এলাকায় যেতে হয়। এসব সমস্যার সমাধানে এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসলেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না।


ঢাকা থেকে তারুয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা সফিক আহমেদ জানান,ভোলার আবহাওয়া অনেক ভালো। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে তবে এখানে যদি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয় তবে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প এক নতুন মাত্রা পাবে।
আয়শা সিদ্দিকা বারি জানান, ভোলায় এখানে বেড়াতে এসে ভালো লাগছে। এখান কার পরিবেশ মুন্ধ করছে আমায়।


মাইনুল এহসান জানান, বাংলাদেশে অনেক পর্যটন এলাকা রয়েছে। তবে তার থেকে ভোলার কুকরি মুকরি, ঢালচর, তারুয়া, কলকিনি সমুদ্র সৈকত আলাদা। যাতায়াত সুবিধা সহ ঐ এলাকাগুলোতে রাত্রিযাপন ও হোটেল মোটেল গড়ে তুললে ভোলা হয়ে উঠবে পর্যঠকদের আকর্শনের জায়গা।


ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ভোলার চরগুলোর সৌন্দয্যে মুগ্ধ হয়ে দেশী বিদেশী পর্যটকরা আসা শুরু করে দিয়েছে। ভোলার চরগুলোকে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য চর ডেভলাপমেন্ট প্রকল্প করে ভোলায় একটি প্রকল্প দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি। এবং আসন্ন জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ভোলা জেলা থেকে প্রধান এজেন্ডা থাকবে ভোলাকে পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলা।

আপনার মন্তব্য জানান