ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মনপুরার জনপদ

মনপুরা প্রতিনিধি, ভোলা বার্তা:

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলা সদরহাজিরহাট বাজার থেকে উত্তর পাশের আঃ লতিফ ভূইয়া বাড়ী সংলগ্ন সংযোগ সড়কটি যেকোন মুহুর্তে নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে সংযোগসড়কটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার তীব্রতায় ঢেউয়েরআঘাতে সংযোগ সড়কটির নিচ থেকে মাটি সড়ে গিয়েছে। সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হলেবন্ধ হয়ে যাবে ২টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যাবস্থা। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে চরমদুর্ভোগে পড়বে হাজির হাট ইউনিয়নের সোনারচর ও চরযতিন গ্রামের ১০ সহ¯্রাধিকমানুষ। সংযোগ সড়কটি থেকে বর্তমানে মেঘনার দুরত্ব রয়েছে ২০মিটার।

সংযোগ সড়কটি ভেঙে গেলে মেঘনার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে পানিবন্ধি হয়ে পড়বে২টি গ্রামের মানুষ। হুমকির মুখে পড়বে সোনারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মসজিদমন্দির। চরম দুর্ভোগে পড়বে কোমলমতি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতিদিন চরযতিন ওসোনারচর গ্রাম থেকে শতাধিক স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে স্কুলেআসা-যাওয়া করে। সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এইসবশিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন শতশত মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এছাড়াও তীব্র ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে হাজিরহাট ইউনিয়নের নাইবেরহাট চৌধুরী বাজারপুর্বপাশের বেড়ীবাধ, সোনারচরের রাস্তার মাথা, দাসেরহাট, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নেরকোরেজডেম, মাষ্টারহাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম ও পুর্ব ওদক্ষিণপাশের বেড়ীবাঁধ।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, সরজমিনেগিয়ে ভাঙন কবলিত এলাকার চিত্র তুলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।এই মুহুর্তে ডাম্পিং বা পাইলিং করার কোন ব্যাবস্থা নেই। ভাঙন এলাকায় নদীভাঙন রোধপ্রকল্প তৈয়রীর জন্য চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি সেলিনা আকতার চৌধূরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহআল ইসলাম জ্যাকব এমপির চেষ্টায় নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।মনপুরা নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ চলছে। তীব্র ভাঙন এলাকায় স্পট নির্ধারণ করেআমরা দ্রুত প্রকল্প তৈয়রীর জন্য চেষ্টা করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সাথেআলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।

ভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন রোধে দ্রুত কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করা না হলে চরম দুর্ভোগেপড়বে ভাঙন কবলিত এলাকার হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে কার্যকরী ব্যাবস্থাগ্রহণ করার দাবী জানিয়েছেন এসব এলাকার বসবাসকারী সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.