চরফ্যাসনে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ

পুকুর ভরাট, নালা ভরাট, জলাশয় কমে গেছেও উপকূলীয় এলাকায় নদী খাল গুলোকে খাচায় মাছ চাষে যুকছে এক শ্রেণির জেলে ব্যবসায়ীরা। সারা বছর জুড়ে বিশেষ এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তি গত উৎকর্ষতার কারণে দেশ বিদেশে খাচায় মাছ চাষ ক্রমাগত ভাবে লাভবান হওয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে এই পেশা। সরকারি খালে বা নদীতে কম জায়গায় খাচায় মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেকে। তেমনি স্বাবলম্বী এক সেলিম নামের এক যুবকের জীবনের গল্প তুলে ধরা হলো।

খাঁচায় হাঁস মুরগী পালনের পাশাপাশি এবার নদীতে ও পুকুরে মানুষ খাঁচায় বা জালের খাঁচায় মাছের চাষ শুরু করেছেন। খাঁচায় মুরগী পালনের পদ্ধতিটি যেমন ত্বড়িৎ গতিতে প্রসারিত হয়েছে, ফলশ্রুতিতে অনেক মানুষই আজ এ পেশায় নিজের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।

জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ। যে কোনো উন্মুক্ত জলাশয়ে স্বল্পব্যয়ে ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে মাছ চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায় বলে এ পদ্ধতিতে দ্রুত আগ্রহ বাড়ছে উদ্যোক্তাদের।

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার ৮নং ওয়ার্ডের ৩০ বছর বয়সি মোঃ সেলিম নদীর সাথে সংযুক্ত খালে নিজ উদ্যোগে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। জালের খাঁচায় মাছ চাষের আদর্শ ক্ষেত্রই হচ্ছে নদী-নালা, খাল বিলসহ উন্মুক্ত জলাশয়। যেখানে স্রোতের সাথে আসা বাড়তি খাবার গুলো মাছ খেয়ে থাকে। মশারির মতো বিশাল আকারের জাল প্রবহমান পানিতে ডুবিয়ে চারকোনা বেঁধে তাতে ২”-৩” সাইজের পোনা ছেড়ে ৪ মাস লালন-পালন করলে পুকুরের তুলনায় উৎপাদন ২০ গুণ বেশি পাওয়া যায় বলে জানান মৎস্য চাষী মোঃ সেলিম।

তিনি আরো জানান, পুকুর বদ্ধ হওয়ায় জৈব খাবারের পরিমান কম থাকে। কিন্তু নদীর স্রোতে জৈব খাবার উৎপাদনের সুযোগ সুবিদা অনেক বেশি যা মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। তাই জালের খাঁচায় মাছ চাষ অত্যন্ত সুবিধাজনক ও লাভজনক পদ্ধতি হওয়ায় তিনি এই কাজটি বেঁচে নিয়েছেন। এখানে তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, গলদা চিংড়ি চাষ করে থাকেন। প্রথমে ১০টি খাঁচা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে তার ৩০টি মাছের খাঁচা রয়েছে। খুব অল্প সময়ে প্রাকৃতিক উপায়ে বিক্রির উপযোগি হয় এসব মাছ। এর স্বাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় বাজারে চাহিদাও প্রচুর।

এব্যাপারে চরফ্যাসন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন মিনার বলেন, নতুন এই মাছ চাষের পদ্ধতি আমিষের ঘাটতি পূরণসহ বেকার সমস্যা সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, সরকারি ভাবে ২০১৫ সালে প্রথমে ১০টি খাঁচা ও মাছ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখন বর্তমানে তার ৩০টি খাঁচা রয়েছে। এই খাঁচায় প্রতি দৈনিক ব্যয় হচ্ছে ১০০০টাকার উপরে তবে বিক্রি ক্ষেত্রে অধিক হারে লাভবান হওয়া যায়। তাই চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় এই পদ্ধিতিটি বাড়িয়ে তোলার আশা ব্যক্ত করেন চরফ্যাসন মৎস্য

Leave a Reply

Your email address will not be published.