ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা নিয়ে সবশেষ যা বললেন চিকিৎসকরা

লাইফ সাপোর্টে আছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভর্তি হওয়ার দশ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিংয়ে আসেন শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

রোববার সন্ধ্যার পর এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ওবায়দুল কাদেরের সবশেষ অবস্থা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য (ভিসি) ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ও কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান সৈয়দ আলী আহসানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা।

সৈয়দ আলী আহসান জানান, ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল তবে শঙ্কামুক্ত নন। আগামী ৭২ ঘন্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, এনজিওগ্রাম করানো হলে তার তিনটি আর্টারিতে (অক্সিজেনবাহী রক্তনালী, ধমনী) ব্লক পাওয়া যায়। তার আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল, সেটিও এসময় একদমই অনিয়ন্ত্রিত ছিল। এ অবস্থায় আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নেই, তার হৃদযন্ত্রের বাম পাশের প্রধান যে ধমনী, যেটাকে আমরা এলএডি (লেফট অ্যান্টেরিয়র ডিসেন্ডিং) আর্টারি বলি, সেটা খুলে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পিসিআইয়ের (পারকিউটেনাস করোনারি ইন্টারভেনশন) মাধ্যমে তার ওই ধমনীতে স্টেনটিং (রিং পরানো) করা হয়।

আলী আহসান বলেন, এ সময় ওবায়দুল কাদের ঘণ্টা দুয়েক ভালো ছিলেন। তারপর ফের তার অবস্থার অবনতি ঘটে। ইলেকট্রোলাইন ইমব্যালেন্স (রক্তে ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি পদার্থের মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা) দেখা দেয়।

ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, এখন তিনি অনেকটাই স্ট্যাবল। চোখ খুলছেন, কথা বলার চেষ্টা করছেন। পা নাড়াচ্ছেন। তবে তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল।

ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয় উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানান, রাতে ঢাকায় আসছেন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তারা আসার পর মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এই মুহূর্তে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক পরিস্থিতি বারবার অবনতি হচ্ছে। এ কারণে এই মুহূর্তে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়।

সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে এনজিওগ্রাম শেষে ওবায়দুল কাদেরের হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.